গতি কম, তবে সঠিক পথেই দেশের অর্থনীতি

Kommentarer · 2 Visninger

গতি কম হলেও দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে আছে বলে মনে করছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)।  

গতি কম হলেও দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে আছে বলে মনে করছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)।  

তাদের মতে, দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি কমেছে।

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানও কম। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির গতি কম। তবে রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত বাড়ছে। সুশাসন ফিরছে ব্যাংকিং খাতে। তাই গতি কম হলেও দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে আছে।

 

পিআরআইয়ের ‘মাসিক ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস’র (এমএমআই) জুন-জুলাই এডিশনে এই চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থনৈতিক এ পর্যালোচনা তারা তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আখতার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।  

ড. আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একটি নিয়মভিত্তিক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে সক্ষম হবো। ’

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশ থেকে ৩-৪ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করছি। ’

ড. খুরশিদ আলম উদ্বোধনী বক্তব্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মূল প্রবন্ধে ড. আশিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ, লজিস্টিকস এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো গভীর সমস্যাগুলো সমাধান ছাড়া নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা কঠিন হবে। ’

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র কঠোর মুদ্রানীতিকে প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যথাযথ নয়। তথ্য-উপাত্ত বলছে, আর্থিক নীতির পাশাপাশি বাস্তব অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান না করলে বাংলাদেশ বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে উদ্দীপ্ত করতে পারবে না এবং প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে পারবে না। ’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পিআরআইয়ের পরিচালক ড. আহমদ আহসান এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (অর্থনৈতিক) জোশুয়া গাকুটান।

ড. আহমদ আহসান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার কার্যকালের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার দেবে।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পার্থিব) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুল্লাহ এন. করিম।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা মুদ্রানীতি, মুদ্রাস্ফীতি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

Kommentarer